রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | সময়: সকাল ৫:২৩

নেইমারের অর্থে ফরাসী ক্লাব মোনাকোকে সান্তোসের দেনা পরিশোধ

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

নেইমারের পরিবারের মালিকানাধীন স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান এনআর স্পোর্টসের আর্থিক সহায়তায় অবশেষে মোনাকোর দেনা পরিশোধ করেছে সান্তোস। ফলে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটির ওপর ফিফার আরোপ করা খেলোয়াড় নিবন্ধনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। এখন থেকে আবার নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে পারবে নেইমারের শৈশবের ক্লাবটি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সান্তোস। ক্লাবটি জানিয়েছে, ফ্রেঞ্চ ক্লাব এএস মোনাকোর কাছে বকেয়া ২০ লাখ ইউরো পরিশোধ করা হয়েছে। এর সঙ্গে সুদের অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে।
সান্তোসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সান্তোস এফসি তাদের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে এবং আবারও ট্রান্সফার মার্কেটে কার্যক্রম পরিচালনার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’
কিভাবে তৈরি হয়েছিল দেনা?
ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জ্যঁ লুকাসকে মোনাকো থেকে স্থায়ীভাবে দলে ভেড়ানোর সময় চুক্তির অর্থের শেষ কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি সান্তোস। এই বকেয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ইউরো। অর্থ না পাওয়ায় গত বছর ফিফার কাছে সান্তোসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মোনাকো।
বিষয়টি তদন্ত করে ফিফা ২০২৫ সালের মে মাসে রায় দেয়, সান্তোসকে ৪৫ দিনের মধ্যে মোনাকোর পাওনা ২০ লাখ ইউরো এবং অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৮৭৬ ইউরো সুদ পরিশোধ করতে হবে।
অর্থ পরিশোধ না করলে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এমনকি সর্বোচ্চ টানা তিনটি ট্রান্সফার উইন্ডো পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সুযোগ ছিল ফিফার সিদ্ধান্তে। ফলে ক্লাবটির জন্য দ্রুত দেনা পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
পাশে দাঁড়াল নেইমারের পরিবারের প্রতিষ্ঠান
এই সংকটের সময় সান্তোসকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে এনআর স্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানটি নেইমারের পরিবারের মালিকানাধীন এবং ২০০৬ সালে তার বাবা-মা এটি প্রতিষ্ঠা করেন। নেইমারের ক্যারিয়ার, ব্র্যান্ড ও ইমেজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত।
সান্তোস জানিয়েছে, এনআর স্পোর্টসের সহায়তায় ক্লাবটি তাৎক্ষণিক অর্থ পেয়েছে। সেই অর্থ দিয়েই মোনাকোর পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। এর বিনিময়ে সান্তোস ও এনআর স্পোর্টস যৌথভাবে ক্লাবটির যেসব কিট স্পনসরশিপের অধিকার এখনো বিক্রি হয়নি, সেগুলো নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কাজ করবে।
অর্থাৎ, দেনা পরিশোধে নেইমারের পরিবারের প্রতিষ্ঠান সরাসরি সহযোগিতা করলেও এর বিনিময়ে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক অধিকার থেকে আয় করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সান্তোস এখন স্বাভাবিকভাবে খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে। ফলে দলকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হলো ক্লাবটির সামনে।
বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ লিগে চলতি মৌসুমে সান্তোসের পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ২৩ ম্যাচে মাত্র ছয়টি জয় পেয়েছে তারা এবং ব্রাজিলের শীর্ষ স্তরের লিগে বর্তমানে তাদের অবস্থান ১৪তম। এমন পরিস্থিতিতে নতুন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার সুযোগ ক্লাবটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নেইমারের সঙ্গে সান্তোসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই ক্লাবের যুব একাডেমি থেকেই তাঁর উত্থান। ২০০৯ সালে সান্তোসের মূল দলে অভিষেকের পর বিশ্ব ফুটবলে নিজের জায়গা করে নেন তিনি।
বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে সাফল্যের পর আল-হিলালে যাওয়ার পথ পেরিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন নেইমার।
ফিরে এসেই ক্লাবটির কঠিন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। গত মৌসুমে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে তাঁর পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। এখন অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্লাবের মাঠের বাইরের সংকটেও নেইমারের পরিবার ও তাদের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মোনাকোর দেনা পরিশোধের মাধ্যমে আপাতত বড় একটি চাপ থেকে মুক্তি পেল সান্তোস। ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় ক্লাবটির জন্য এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে দলকে আরও শক্তিশালী করা এবং লিগে অবস্থানের উন্নতি ঘটানো।
নেইমারের পরিবারের প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় জরুরি আর্থিক সংকট সামাল দিলেও সান্তোসের সামনে এখনো রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ- আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, মাঠের ফল ঘুরিয়ে দেওয়া এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করা।
আইএইচএস/

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বাধিক পঠিত

Daraz square banner

সম্পর্কিত পোস্ট