বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ | সময়: ভোর ২:৪৫

চারণভূমি সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

চারণভূমি সুরক্ষা ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (২৬ আগস্ট) মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের (ইউএনসিসিডি) ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজে (কপ১৭) এ আহ্বান জানান তিনি। ‌‘তৃণভূমি পুনরুদ্ধার এবং পশুপালক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।
সংলাপে খাস ও কমিউনিটি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৭, দুই শতাধিক বিদেশিসহ নিখোঁজ ৩৮৪

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রচলিত অর্থে বিস্তীর্ণ চারণভূমির দেশ নয়। তবে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবিকায় প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফসল কাটার পর কৃষিজমি, পতিত জমি, চরাঞ্চল, জলাভূমি, সড়কের পাশ পশুচারণে ব্যবহৃত হয়। প্রাণিসম্পদ খাত দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ২ শতাংশ অবদান রাখে এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।
তিনি বলেন, জনসংখ্যার চাপ ও বিভিন্ন ধরনের ভূমি ব্যবহারের কারণে পশুচারণের জায়গা ক্রমেই কমছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় চারণভূমি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ জন্য কমিউনিটি ও খাস চারণভূমি চিহ্নিত ও মানচিত্রভুক্ত করা, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বাংলাদেশের জলাভূমি ও বন্যা-বিধৌত অঞ্চলের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব এলাকা মাটির উর্বরতা রক্ষা, পানি নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কার্বন ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে না দেখে জাতীয় ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

কয়লাখনি ইস্যুতে ২০ বছর পর ফের উত্তাপ ফুলবাড়ী

টাঙ্গুয়ার হাওরের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে ধারাবাহিক অর্থায়নের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকার প্রয়োজন।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে টেকসই চারণভূমি ও কমন ল্যান্ড ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং ভূমি অবক্ষয়, খরা ও মরুকরণ মোকাবিলায় জাতীয় রোডম্যাপের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সমন্বয় করবে।
তিনি চারণভূমি পুনরুদ্ধার ও টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন, জবাবদিহি ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে এবং অন্যদের কার্যকর অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে প্রস্তুত বলেও জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী পর্যায়ের এ সংলাপে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের প্রধান অংশ নেন।
ইএইচটি/কেএসআর

Daraz horizontal banner
technoviable
Daraz square banner
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট