বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ | সময়: ভোর ৩:৪১

জলাবদ্ধতা নিরসনে পানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করলেন এমপি

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কচুরিপানা পরিষ্কারে নিজেই পানিতে নামেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেন তিনি।
সংসদ সদস্যকে পানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করতে দেখে এলাকার শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে খালের বিভিন্ন অংশ থেকে কচুরিপানা সরিয়ে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিল থেকে পঙ্গুয়াই খাল হয়ে পানি কাকনী খালে প্রবাহিত হতো। পরে সেই পানি দিয়ারা নদীতে গিয়ে পড়ত। তবে কাকনী খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি নিজেদের দাবি করে স্থানীয় কয়েকজন জায়গাটি আটকে দেওয়ায় প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে।
এতে পঙ্গুয়াই খালে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের বাড়িঘর ও ফসলি জমি পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে তাদের এলাকার শত শত একর ফসলি জমি দীর্ঘ সময় পানির নিচে পড়ে থাকে। এতে কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংসদ সদস্য নিজে এসে কচুরিপানা পরিষ্কার করায় তারা আশাবাদী, এবার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, আজ খালের কচুরিপানা পরিষ্কার করার পর আশপাশের পানি খালে নামতে শুরু করেছে। এতে আমরা অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।
একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, শুধু কচুরিপানা পরিষ্কার করলেই হবে না, খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাহলে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা সংসদ সদস্যকে জানিয়েছিলাম। তিনি তখন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আজ তিনি নিজে পানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করেছেন এবং এলাকাবাসীকেও কাজে উৎসাহিত করেছেন।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, একসময় দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রাণশক্তি ছিল খালগুলো। কিন্তু দখল, ভরাট ও কচুরিপানার স্তূপের কারণে অনেক খাল এখন নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে আমরা যদি খালগুলো সচল করতে পারি, তাহলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও বেগবান হবে। খালগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য ঘোষণা দেন, পঙ্গুয়াই খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির কারণে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, সেই জমি তিনি নিজে কিনে নেবেন। পরে খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনেক পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের কৃষি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তারা।
হোসাইন সুলভ/এসজেডএইচ/জেআইএম

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট