শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ | সময়: সকাল ৭:৫৬

‘স্যার, যদি এটা ঘটে তাহলে আমি বিরল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইলাম’

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে মতামত জানতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের ডিন এবং ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন, লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ।
গত ১০ আগস্ট রাতে ঢাকার রামপুরার বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে ডা. সায়ন্থর চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসেন মির্জা ফখরুল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মির্জা ফখরুলের ফোনালাপ তিনি শুনেছেন বলেও জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সায়ন্থ সাখাওয়াত এ দাবি করেন।
২০ আগস্ট তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘আজ এক বিরল ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলাম। ফ্যাক্ট#২০ আগস্ট।’ তখন বিষয়টি বিস্তারিত না বললেও মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।
স্ট্যাটাসে সায়ন্থ সাখাওয়াত জানান, গত ১০ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসার প্রয়োজনে মির্জা ফখরুল তার চেম্বারে আসেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মির্জা ফখরুলের ওরাল ও ডেন্টাল চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

‘এমন মার্জিত মানুষকে রাজনীতিতে আমরা মিস করবো’

চিকিৎসার একপর্যায়ে তিনি মির্জা ফখরুলকে জিজ্ঞেস করেন, ‘স্যার, আপনার বিষয়টা কি সিকিউরড হয়েছে?’ জবাবে মির্জা ফখরুল জানান, এ বিষয়ে তাকে এখনো কোনো কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি। এমনকি কোনো মাধ্যমেও তার মতামত জানতে চাওয়া হয়নি।
সায়ন্থ সাখাওয়াত লেখেন সংবাদমাধ্যমে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা হচ্ছে- এমন খবর প্রকাশিত হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তখন মির্জা ফখরুল হেসে বলেন, ‘এটা তো আমার জন্য এক বিপদ হয়েছে। আমি তো এখন ওদের ফোনও ধরি না।’
এর কিছুক্ষণ পর চা খাওয়ার সময় মির্জা ফখরুলের মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। কথোপকথন শুনে তিনি বুঝতে পারেন রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগের বিষয়ে মির্জা ফখরুলের মতামত জানতে চাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দেশ-জনগণের পাশে থাকবেন, আশা সাধারণ মানুষের

সায়ন্থ সাখাওয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তো সবাই আপনার ওপরেই দায়িত্ব দিয়েছি। আপনি যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই করবেন। সেটাই আমাদের মত।’
এরপর মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো।’
সায়ন্থ সাখাওয়াত আরও দাবি করেন, ওই ফোনালাপে বিকল্প হিসেবে কারা রাষ্ট্রপতি হতে পারেন সে বিষয়েও আলোচনা হয়। তখন মির্জা ফখরুল খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম উল্লেখ করেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তাকেও বিবেচনা করার কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী কথোপকথনের শেষ দিকে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনা করে আপনি যেটা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল

ফোনালাপ শেষ হওয়ার পর সায়ন্থ সাখাওয়াত মির্জা ফখরুলের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘স্যার, ইফ ইট ইজ হ্যাপেনস (if it happens), তাহলে আমি এবং আমার এই রুম একটি বিরল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইলাম।’
জবাবে মির্জা ফখরুল হেসে বলেন, ‘ইউ অলওয়েজ মেক হিস্ট্রি’ (You always make history’)।
সায়ন্থ সাখাওয়াত লিখেছেন, কথাটি মির্জা ফখরুল হয়তো স্নেহ কিংবা নিছক রসিকতা করেই বলেছিলেন। তবে ওই মুহূর্তে তার মনে হয়েছিল তিনি সত্যিই একটি বিরল ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন।
স্ট্যাটাসে মির্জা ফখরুলের গুণাবলিরও প্রশংসা করেন সায়ন্থ সাখাওয়াত। তার দাবি দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন, ব্যক্তিগত আচরণ, সততা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, রাজনৈতিক সংগ্রাম, শিক্ষাদীক্ষা ও চিন্তাভাবনাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘আমার চোখে তিনি সেরাদের সেরা।’ রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মির্জা ফখরুলকে দেখতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
মির্জা ফখরুলের মানবিক আচরণের স্মৃতিচারণ করে সায়ন্থ সাখাওয়াত বলেন, চিকিৎসার জন্য তার চেম্বারে এলে অনেক সময় মির্জা ফখরুল হাতে করে শার্ট, টাই, স্যুট পিস কিংবা তার সন্তানদের জন্য চকলেট নিয়ে আসতেন। তার কাছে এসব উপহার নিছক উপহার নয় বরং ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রকাশ।

আরও পড়ুন

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

সায়ন্থ সাখাওয়াতের ভাষায়, একজন মানুষ যখন অন্য একজনকে মনে রাখেন তার পরিবার ও সন্তানদের কথা ভাবেন এবং ব্যস্ততার মধ্যেও তাদের জন্য কিছু নিয়ে আসেন তখন সেই ছোট্ট কাজের মধ্যেও তার বড় মনের পরিচয় পাওয়া যায়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ওই রাতের ঘটনাকে নিজের জীবনের একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন সায়ন্থ সাখাওয়াত।
তিনি লিখেছেন, ‘কিছু মুহূর্ত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। ১৮ আগস্টের সেই সময়টা আমার কাছে তেমনই একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।’
শেষে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের সফলতা কামনা করে সায়ন্থ সাখাওয়াত বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে একজন সজ্জন, যোগ্য, সংবেদনশীল ও মানবিক মানুষকে পাওয়া তার কাছে আনন্দ ও গর্বের বিষয়।
তবে স্ট্যাটাসে বর্ণিত ফোনালাপ বা ওই সময়কার আলোচনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা প্রধানমন্ত্রীর কোনো পৃথক বক্তব্য উল্লেখ করেননি সায়ন্থ সাখাওয়াত। ফলে ঘটনাটির বর্ণনা তার ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও দাবি হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।
এমইউ/বিএ

Daraz horizontal banner
Daraz square banner
technoviable
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট