বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | সময়: সকাল ৪:৩১

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মারামারি: বিশাল শাস্তির মুখে প্যারেদেস

👁️ ৩ Time View
Daraz horizontal banner

বিশ্বকাপের ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া মারামারির ঘটনার জেরে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। তদন্তে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ফুটবলার।
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির নথি অনুযায়ী, প্যারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক আগ্রাসী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্বকাপ থেকে উদ্ভূত সবচেয়ে কঠোর ব্যক্তিগত শাস্তিগুলোর একটি পেতে পারেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।
ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী, ম্যাচ অফিসিয়াল ছাড়া প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় বা অন্য কারও বিরুদ্ধে আগ্রাসী আচরণ করলে প্রতিটি অপরাধের জন্য ন্যূনতম তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।
সে হিসেবে পারেদেসের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হলে তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ ৯ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি। তবে অতীতের বিভিন্ন শৃঙ্খলাজনিত মামলার নজির বিবেচনায় ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, পাঁচ থেকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই হতে পারে সবচেয়ে সম্ভাব্য শাস্তি।
মোলিনা ও আয়ালাও তদন্তের আওতায়
শুধু প্যারেদেস নন, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধেও দুটি আগ্রাসী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সরাসরি হামলার এবং অন্যটি হামলার চেষ্টার অভিযোগ।
এছাড়া আর্জেন্টিনা দলের সহকারী কোচ ও সাবেক ডিফেন্ডার রবার্তো ফ্যাবিয়ান আয়ালার বিরুদ্ধেও আগ্রাসী আচরণের অভিযোগ এনেছে ফিফা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
আলমাদা ও গাভির বিরুদ্ধেও অভিযোগ
তদন্তের তালিকায় রয়েছেন আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভিও। তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের অভিযোগ। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্তত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হতে পারে।
শুধু খেলোয়াড় নয়, তদন্তে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও
এই তদন্ত কেবল কয়েকজন ফুটবলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধেও পৃথক শৃঙ্খলাভঙ্গের কার্যক্রম শুরু করেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১. বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি। ২. ম্যাচ ও নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন। ৩. নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু করা। ৪. খেলোয়াড় ও সমর্থকদের রাজনৈতিক বা অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন। ৫. গ্যালারি থেকে বিভিন্ন বস্তু মাঠে নিক্ষেপ।
এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে এএফএকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুনতে হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে তাদের ঘরের মাঠের কিছু ম্যাচ আংশিক বা পুরোপুরি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজনের নির্দেশও দিতে পারে ফিফা।
এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
তবে এখনই কোনো শাস্তি ঘোষণা করেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফিফা কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এখন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ)-কে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হবে। তারা লিখিত জবাব, প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবে।
সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সিদ্ধান্ত জানাবে অভিযোগগুলো বহাল থাকবে কি না এবং থাকলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, কোচ ও ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইএইচএস/

Daraz horizontal banner
technoviable
Daraz square banner
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট