রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ | সময়: দুপুর ১২:৫৮

বন্ধের দিনে গ্রাহকের অজান্তে কিউআর হিসাব খুলছে সোনালী ব্যাংক

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

জামালপুরে গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ‘বাংলা কিউআর’ হিসাব খোলার অভিযোগ উঠেছে সোনালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে। সারা দেশে কিউআর হিসাব খোলায় শীর্ষে থাকার লক্ষ্যে ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় ছুটির দিনেও কর্মীদের দিয়ে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার দাবি, গ্রাহকের অজান্তেই সঞ্চয়ী হিসাবেও এ কিউআর সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) জামালপুর শহর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার একাধিক শাখা সরেজমিনে ঘুরে ছুটির দিনে ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাজ করার চিত্র পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ডিজিটাল লেনদেন সহজ ও নিরাপদ করতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই লেনদেন করা যায়। এ সুবিধার প্রসারে দেশজুড়ে প্রচার চালাচ্ছে ব্যাংকগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামালপুরে সোনালী ব্যাংকের ১৯টি শাখা রয়েছে। এসব শাখায় প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাহকের বাংলা কিউআর হিসাব খোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, আগস্টের শুরু থেকে প্রতি শনিবার তাদের কোনো ভাতা ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে গ্রাহকের অজান্তেই বাংলা কিউআর হিসাব খোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই। চলতি হিসাবের পাশাপাশি সঞ্চয়ী হিসাবেও কিউআর খোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, অধিকাংশ গ্রাহকই জানেন না যে তাদের নামে বাংলা কিউআর হিসাব খোলা হচ্ছে। মূলত সারা দেশের মধ্যে কিউআর হিসাব খোলায় প্রথম স্থান অর্জনের লক্ষ্যেই এমনটা করা হচ্ছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামালপুর শহরের ঢাকাইপট্টি এলাকায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকে তালা ঝুলছে। তবে ভবনের দ্বিতীয় তলায় কর্মীদের উপস্থিতি ছিল। বাইরে কয়েকটি মোটরসাইকেলও দেখা যায়। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা অবশ্য ভেতরে কেউ নেই বলে জানান।
পরে শহরের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে লম্বাগাছ এলাকায় সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় গিয়ে ৮ থেকে ১০ জনকে কাজ করতে দেখা যায়।
শাখাটির ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কাজের চাপ থাকায় বন্ধের দিনেও ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের আবেদনের মাধ্যমেই কিউআর হিসাব খোলা হচ্ছে।
তবে কিউআর হিসাব খোলার লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে মন্তব্য না করে তিনি এ বিষয়ে ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
একই দিন বেলা ৩টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী বাজারে সোনালী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। তবে ভেতরে এসি ও লাইট চালু ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য প্রথমে সফ্‌টওয়্যার আপডেটের কাজ চলছে বলে জানান। পরে তিনি স্বীকার করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভেতরে কিউআর হিসাব খোলার কাজ চলছে।
সেখানে উপস্থিত প্রিন্সিপাল অফিসার আব্দুর রহিম অবশ্য দাবি করেন, তারা ডাটা ক্লিনিংয়ের কাজ করছেন।
শাখা ব্যবস্থাপক জহিরুল হক বলেন, জিএম অফিসের নির্দেশে ছুটির দিনেও কাজ চলছে।
তবে গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া কিউআর হিসাব খোলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও জিএম অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোনালী ব্যাংক পিএলসির জামালপুর কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ এনামুল হককে একাধিকবার বিভিন্ন সময়ে একাধিক নম্বর থেকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
হৃদয় আহম্মেদ/কেএইচকে

Daraz horizontal banner
Daraz square banner
technoviable
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট