সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | সময়: রাত ৮:৪৯

৭৫০ বলে শেষ টেস্ট, আর যে সব রেকর্ড গড়লেন স্টার্ক-শরিফুল

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

ম্যাকাইতে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেকটা ছিল সময়ের হিসেবে অস্বাভাবিক ছোট। মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হয়েছে ম্যাচটি। প্রায় পৌনে ২দিন খেলা হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে যেখানে সর্বোচ্চ ৪৫০ ওভার (৫ দিনে ৯০ ওভার করে) কিংবা ২৭০০ বলের খেলা হওয়ার কথা, সেখানো কেবল ৭৫০ বলেই শেষ হয়ে গেলো টেস্ট।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস জয়ও (১ ইনিংস ও ৫১ রানে) এসেছে এমন এক ম্যাচে, যেখানে দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও রেকর্ডের কমতি নেই- মিচেল স্টার্কের দ্রুততম ১০ উইকেট, শরিফুল ইসলামের ঐতিহাসিক সাত উইকেটসহ ম্যাচটি জায়গা করে নিয়েছে টেস্ট ক্রিকেটের নানা পরিসংখ্যানে।
৭৫০: অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার ম্যাকাইয়ে টেস্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে মাত্র ৭৫০ বল (১২৫ ওভার)। পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন বলে শেষ হওয়া সম্পূর্ণ টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
৩: অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ সাতটি টেস্টের মধ্যে তিনটিই শেষ হয়েছে মাত্র দুই দিনে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দিনের টেস্ট হয়েছিল মাত্র দুটি।
৩৬৯: ম্যাকাই টেস্টে দুই দলের মোট রান। বাংলাদেমের ৬৪ ও ৯৫। অস্ট্রেলিয়ার ২১০। সম্পূর্ণ হওয়া পুরুষদের টেস্টে এটি ষষ্ঠ সর্বনিম্ন দলীয় রান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে কম মোট রান হয়েছিল ১৯৩২ সালে মেলবোর্নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে- মাত্র ২৩৪।
৬৪ ও ৯৫: ম্যাকাই টেস্টের দুই ইনিংসে বাংলাদেশের রান। প্রথমবারের মতো কোনো টেস্টে বাংলাদেশ দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো। এর আগে এক ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন মোট রান ছিল ১৮৭, ২০১৮ সালে নর্থ সাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
২০০৫: এর আগে সর্বশেষ কোনো দল পুরুষদের টেস্টে দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়েছিল ২০০৫ সালে। হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এমন লজ্জার রেকর্ড গড়েছিল জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের আগে সর্বশেষ দল হিসেবে তারাই এই নজিরের অংশ ছিল।
২১০: প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার রান। এত কম রান করেও ইনিংস ব্যবধানে জয়ের নজির টেস্ট ইতিহাসে মাত্র তিনটি দলের ছিল এর চেয়ে কম স্কোরে। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে সেরা তিনটির দুটিতে। তবে তিনটি নজিরই ১৯৫০ সালের আগের।
১০৯: মাত্র ১০৯ বলে ম্যাকাই টেস্টে নিজের ১০ উইকেট পূর্ণ করেন মিচেল স্টার্ক। টেস্টে এর চেয়ে কম বলে ১০ উইকেট নেওয়ার নজির আছে মাত্র চারজন বোলারের। ১৯১২ সালে দ্য ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফ্র্যাঙ্ক উলির ১০৪ বলের পর এটিই দ্রুততম।
১২৩: এর আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্রুততম ১০ উইকেটের রেকর্ডও ছিল স্টার্কের। গত বছরের পার্থ অ্যাশেজ টেস্টে ১২৩ বলে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার নিজের সেই রেকর্ডই ভেঙে ফেললেন।
৪: টেস্ট ক্রিকেটে স্টার্কের ১০ উইকেট শিকারের সংখ্যা এখন চারটি। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি এমন কীর্তি আছে শুধু ডেনিস লিলির- সাতবার। ২০০০ সালের পর ফাস্ট বোলারদের মধ্যে স্টার্কের চেয়ে বেশি ১০ উইকেটের ম্যাচ আছে শুধু ডেল স্টেইনের- পাঁচটি।
৬: ম্যাকাই টেস্টে স্টার্কের শিকার বাংলাদেশের ছয় ব্যাটারই ফিরেছেন শূন্য রানে। টেস্টের এক ম্যাচে তার চেয়ে বেশি ব্যাটারকে ডাক মেরে ফেরানোর নজির আছে শুধু জিম লেকারের। ১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯ উইকেটের ম্যাচে আটজনকে শূন্য রানে ফিরিয়েছিলেন তিনি। আর আটজন বোলার এক ম্যাচে ছয়টি করে ডাক পেয়েছেন- সর্বশেষ ২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ইয়াসির শাহ।
৮: স্টার্কের ১০ উইকেটের আটটিই এসেছে বাঁ-হাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে। এক টেস্টে বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে এর চেয়ে বেশি উইকেট আছে শুধু নাথান লায়নের- ২০১৭ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই ১০টি। ট্রেন্ট বোল্ট, রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও মেহেদী হাসান মিরাজও এক টেস্টে বাঁ-হাতি ব্যাটারদের আটবার করে আউট করেছেন।
৭/৪৮: অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে শরিফুল ইসলামের বোলিং ফিগার। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি তৃতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। একই সঙ্গে শরিফুল হলেন বাংলাদেশের প্রথম পেসার, যিনি টেস্টে এক ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন।
১৮৮৬: শরিফুলের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সাত উইকেট নেওয়া সর্বশেষ বাঁহাতি পেসার ছিলেন ইংল্যান্ডের ডিক বার্লো। ১৮৮৬ সালে ম্যানচেস্টারে সেই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
আইএইচএস/

Daraz horizontal banner
technoviable
Daraz square banner
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট