বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সময়: সকাল ৪:৩৯

হাজিদের বিমান ভাড়ার ৬৭ হাজার টাকা গেল কোথায়, তদন্ত চান ধর্মমন্ত্রী

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, ২০২৩ সালে হাজিদের বিমান ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা নেওয়া হয়েছিল। অথচ ২০২৭ সালে সেই বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে অতিরিক্ত ৬৭ হাজার বাড়তি নেওয়া হয়েছে। এই টাকা কোথায় গেছে, তা তদন্ত হওয়া উচিৎ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে ২০২৩ সালে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা বিমান ভাড়া নিয়েছিল। এই টাকাগুলো কী করেছে? কোথায় গিয়েছে? এগুলোর বিচার হওয়া উচিত। এগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ ইতিহাস কী বলে? ভাড়া কখনো কমে না, ভাড়া বাড়ে। কিন্তু এই সরকার প্রমাণ করেছে, হাজিদের জন্য ভাড়া কমে।’
শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘২০২৭ সালে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়, হজ প্যাকেজ এক এবং হজ প্যাকেজ দুই। হজ প্যাকেজ এক হলো, ২০২৬ সালে মূল টাকা ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা, খাবার অন্তর্ভুক্তি ছাড়া ছিল। ২০২৭ সালে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা করা হয়েছে। এবার পূর্বের তুলনায় ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা কমানো হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রীর জন্যই সম্ভব হয়েছে।’

আরও পড়ুন

সংসদে ধর্মমন্ত্রী / ২০২৭ সালে হজ প্যাকেজে সর্বোচ্চ কমবে ৭৫ হাজার টাকা

তিনি বলেন, ‘এবার খাবারের মূল্য বাবদ ৪৯ হাজার ১৩৬ টাকা প্যাকেজের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাবারের টাকাসহ যদি আমরা দেখতে পাই, তাহলে অনেক কম মূল্যে, গতবারের চেয়ে অনেক কম মূল্যে আমরা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। পৃথিবীর কোথাও এত কম মূল্যে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি।’
 ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-২ ছিল ৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, খাবার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ২০২৭ সালে হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। পূর্বের তুলনায় ৫৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। এবার খাবারের মূল্য বাবদ ২৯ হাজার টাকা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও জনবান্ধব নেতৃত্বে, আল্লাহর মেহেরবানীতে আল্লাহর মেহমানদের সেবায় বাংলাদেশ সরকার মানবিকতা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার মহৎ ধারা আগামীতে অব্যাহত রাখবে।’
গত হজের একটি ঘটনা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘ আমি একটি কথা উল্লেখ করতে চাই। গত হজে যখন এই দেশের সরকারি-বেসরকারি হাজিরা সবাই লাস্ট ফ্লাইটে চলে গেছে এবং এখানকার সরকারি কর্মকর্তারা যারা সবাই চলে গেছে, যাওয়ার পর আমাকে এক গোয়েন্দা সংস্থা ফোন করে বললো। আমি তখন সৌদি আরবে অবস্থান করছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমাকে বলল, দুইজন হাজী, এক হাজবেন্ড ও ওয়াইফ কান্নাকাটি করতেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন? বলে, তাদের ভিসা আছে, কিন্তু তারা যেতে পারছে না, টিকিট নেই। তারা যে এজেন্টের মাধ্যমে যাওয়ার কথা ছিল, তারা তাকে টিকিট দেয়নি।’
‘তখন আমি সৌদি আরব থেকেই যোগাযোগ করে, শুধু একটা ফ্লাইট যাওয়া বাকি ছিল। তাদের অনুরোধ করে তাদের রিয়াদ থেকে টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়ে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। কারণ না হলে পর দিন বিরাট হেডলাইন বের হবে। এই সরকারের সময়ে দুইজন হাজি সৌদি আরবে যেতে পারেনি।’
 তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আল্লাহ আমাদের কামিয়াবি করেছেন যে তারা হজে যেতে পেরেছেন। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড়… আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করার মন-মানসিকতা।’
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে সবার কাছে দোয়া চাই, আগামী দিনের হজ যেন আরও সুন্দর, সুষ্ঠু এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা করতে পারি, এই তৌফিক আল্লাহ আমাদের দান করুক।’
এমওএস/এমআইএইচএস

Daraz horizontal banner
technoviable
Daraz square banner
technoviable

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট