সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | সময়: সকাল ৯:৪০

রপ্তানিমুখী শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ চান ব্যবসায়ীরা

👁️ ১ Time View
Daraz horizontal banner

দেশে গ্যাসের সংকট, বাড়তি জ্বালানি ব্যয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এ অবস্থায় শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও নীতি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানান তারা।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও এমসিসিআই ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ: উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিজনেস ইনডেক্স (বিবিএক্স) ২০২৪-২৫-এর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশের ব্যবসায়িক অবকাঠামোর মান কমেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যবসায়িক অবকাঠামোর স্কোর ছিল ৭১ দশমিক ১, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ৬৮ দশমিক ৮ হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তারা কখনো কখনো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়ছেন। বিপরীতে মাত্র ২০ দশমিক ১ শতাংশ ব্যবসায়ী অবকাঠামো উন্নয়নে কাঠামোগত বা নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ দেখতে পেয়েছেন। ওষুধ ও রাসায়নিক, ইলেকট্রনিকস এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব তুলনামূলক বেশি বলে উঠে এসেছে।  

আরও পড়ুন

কখন লোডশেডিং হবে, জানানোর দাবি শিল্প উদ্যোক্তাদের

বক্তারা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সংকট, কম গ্যাসের চাপ, জ্বালানি সংকট, বাড়তি জ্বালানি ব্যয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। চলতি আগস্টের শুরুতে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। কম গ্যাসের চাপের কারণে অনেক কারখানাকে উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ রাখতে হয়েছে। 
গোলটেবিলের আলোচনায় লাফার্জহোলসিমের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান শিল্প বিনিয়োগ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় জ্বালানি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে ১০ থেকে ২০ বছরের জ্বালানি কৌশল প্রণয়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, সিরামিক শিল্পের জন্য গ্যাস শুধু জ্বালানি নয়, উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপকরণ। দীর্ঘদিনের সরবরাহ অনিশ্চয়তা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের জন্য হুমকি তৈরি করছে।  
ইএসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ইজাজ হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকট এখন শুধু সরবরাহের সমস্যা নয়, এটি অর্থনীতি ও পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ, জ্বালানি বরাদ্দ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাস্তবসম্মত জ্বালানি মিশ্রণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।  
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জ্বালানি সংগ্রহের দুর্বলতার প্রতিফলন। শিল্পের জন্য আলাদা জ্বালানি নীতি প্রণয়ন এবং জ্বালানি-নির্ভর ও রপ্তানিমুখী শিল্প সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। 

আরও পড়ুন

এনবিআরে বড় রদবদল, একযোগে ৩৬ কর্মকর্তা বদলি

অনুষ্ঠানে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক ও এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান।  
আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, অনির্ভরযোগ্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কম গ্যাসের চাপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয় রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এ অবস্থায় রপ্তানিমুখী শিল্প ও বড় শিল্পাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ এবং কারখানাগুলোর উৎপাদন পরিকল্পনার সুবিধার্থে আগাম ও বিশ্বাসযোগ্য লোডশেডিং সূচি প্রকাশের দাবি জানান তারা।
গোলটেবিল আলোচনায় একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক, তথ্যনির্ভর ও বাস্তবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্কার কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিদ্যমান বিনিয়োগ সুরক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শিল্প সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গোলটেবিলের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নীতিপত্র তৈরি করা হবে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি, পূর্বানুমেয় মূল্য নির্ধারণ, দেশে জ্বালানি অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এনএস/কেএসআর

Daraz horizontal banner
technoviable
technoviable
Daraz square banner

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট